+88-01750377939 karmojibin91@gmail.com

-মেহের আফরোজ চুমকি
মাননীয় সংসদ সদস্য—৩৩৩,
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ,
প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

‘কর্মজীবী নারী’আন্তর্জাতিক নারী দিবস, ২০২৪—এর “নারীর সমঅধিকার, সমসুযোগএগিয়ে নিতে হোক বিনিয়োগএই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে “পোশাক শিল্পের নারীশ্রমিকের অবৈতনিক গৃহস্থালি ও যত্ন/ সেবামূলক কাজ: নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিকদের দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ক গবেষণার উপর আজ ১৩ মার্চ ২০২৪ বুধবার সকাল ১০:৩০ — দুপুর ০১.০০ টা পর্যন্ত সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টার (সিআইসিসি) মিলনায়তন, চামেলি হাউস, ১৭ তোপখানা রোড, ঢাকা ১০০০ একটি সেমিনার আয়োজন করেছে। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহের আফরোজ চুমকি, মাননীয় সংসদ সদস্য—৩৩৩, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সভাপতিত্ব করেছেন কর্মজীবী নারী’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিরীন আখতার, সাবেক সংসদ সদস্য (ফেনী—১)। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেছেন সানজিদা সুলতানা, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক, কর্মজীবী নারী।

কর্মজীবী নারী’র ‘অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় “Unpaid care work: perspective of employers and workers in RMG sector” শিরোনামে একটি গবেষণা পরিচালনা করে। এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল পোশাক শিল্পের নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের অবৈতনিক গৃহস্থালি ও যত্ন/ সেবামূলক কাজের পরিস্থিতি বিশ্লেষণসহ নারী’র অবৈতনিক সেবামূলক কার্যক্রমের একটি চিত্র তুলে আনা। পাশাপাশি এ বিষয়ে কারখানা ব্যবস্থাপকের দৃষ্টিভঙ্গি ও এর ফলে কারখানায় নারীশ্রমিকদের বাধাসমূহ দূরীকরণে কী ধরনের সহায়ক ব্যবস্থা রয়েছে সেগুলো সামনে নিয়ে আসা। আমরা মনে করি, নীতি—নির্ধারণী পর্যায়ে তৈরি পোশাক শিল্পের নারীশ্রমিকের ক্রমহ্রাসমান পরিস্থিতি উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হলে এই গবেষণাটি গুরুত্বপূণূ ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া তৈরি পোশাক খাতের নারীশ্রমিকদের বাধাসমূহ দূরীকরণে সরকার এবং নিয়োগদাতা থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে আলোচনা করাসহ এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়াও প্রয়োজন।

সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কর্মজীবী নারী’র সহসভাপতি উম্মে হাসান ঝলমল। গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন জাকিয়া হক, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ক্রিয়েটিভ পাথওয়ে বাংলাদেশ। গবেষণায় দেখা গেছে, পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে ৭৯ শতাংশ নারী পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে চাকরি থেকে ঝরে পড়ছে। বর্তমানে পোশাক শিল্পের সাথে যুক্ত নারীশ্রমিকদের ৭১ শতাংশকে নিজের সন্তান দেখাশোনা করার দায়িত্ব নিজেকেই পালন করতে হয়। ফলে একইসাথে চাকুরি এবং সন্তান লালন পালন করতে গিয়ে তারা অনেকেই দুটোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছেন না। ৩৬ শতাংশ নারী শ্রমিক এ দুটোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে প্রচন্ড কাজের চাপবোধ করেন। ৪১ শতাংশ নারী শ্রমিক নিজের কোন সময়ই পান না।

মেহের আফরোজ চুমকি, মাননীয় সংসদ সদস্য—৩৩৩, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বলেন, সকল কর্মক্ষেত্রে ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন করা বাধ্যতামূলক করা দরকার। এইসব সেমিনার আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরতে হবে।

আয়শা সিদ্দিকী, উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন), মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর জানান, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিল্প এলাকায় ৬০ টি ডে কেয়ার চালু করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এছাড়া তিনি মনে করেন নারী শ্রমিকদেরকে স্যানিটারি ন্যাপকিনের সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকার এবং কারখানার মালিককে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দক্ষ শ্রমিকদের কোনভাবেই ঝরে পড়তে দেওয়া যাবে না বলে তিনি দাবি করেন।

মোছাঃ জুলিয়া জেসমিন, যুগ্ম মহাপরিদর্শক (স্বাস্থ্য অধিশাখা) কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মনে করেন, ডে কেয়ার ইস্যুতে আলাদা করে কারখানা ভিজিট করা প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, ফ্যাক্টরির সাইজ অনুযায়ী কতগুলো ডে কেয়ার থাকা দরকার এবং এলাকাভিত্তিক ডে কেয়ার স্থাপন করা যায় কিনা এ ব্যাপারেও আলোচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন ৪ ঘন্টা ওভারটাইম করার কারণে শ্রমিকদের কাজের স্পৃহা কমে যায়। ৬ বছরের অধিক বয়সী বাচ্চাদেরও যেন ডে কেয়ারে রাখা যায় সে ব্যাপারেও কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় শ্রমিক নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য বলেন, শাহ মো: আবু জাফর, সভাপতি বলেন, শ্রমিক কল্যাণের জন্য সবার আগে কারখানার মালিকদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। নারীর অগ্রযাত্রায় এ ধরনের সেমিনার আরও বেশি করা প্রয়োজন। আমি মনে করি নারীর অগ্রযাত্রায় আজকের এই সেমিনার মাইলফলক হয়ে থাকবে।

রাইজিং গ্রুপের এসিসট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার, এডমিন এন্ড কম্প্লায়েন্স, মইনুল ইসলাম বলেন, কারখানার ডে কেয়ারে ৬ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চা রাখা যায়। কিন্তু এর পরে বাচ্চাদের নিরাপত্তা ইস্যুতে অনেক নারীকে চাকরি ছেড়ে চলে যেতে হয়। তাই আমি মনে করি ৬-১৪ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য নিরাপদ দিবাযত্ন কেন্দ্র প্রয়োজন।

ফাতেমা তুজ জোহরা, প্রাইভেট সেক্টর পার্টনারশিপ ব্রোকার, অক্সফ্যাম ইন গ্রেট ব্রিটেন,”আমি নারী, আমি সব পারি” এই ধারণা আমাদের পুরোপুরি ভেঙে ফেলতে হবে। কেননা একজন নারী যখন সবকিছু পারতে যায় এবং করতে যায় তখনই তাকে শ্রম শোষণের শিকার হতে হয়। তাই ঘরে বাইরে নারীর কাজের চাপ কমানোর জন্য সরকারের পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদেরও দায়িত্ব পালন করতে হবে। যেখানে নারীদের সুবিধা দেওয়া হয় সেখানে নারীদের ঝরে পড়ার হার কম। তাই নারীর জন্য এই সুবিধার বিষয়গুলো পলিসিতেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

নারীশ্রমিক ইয়াসমিন বলেন, বেতন বাড়র সাথে সাথে প্রোডাকশনের চাপ বেড়েছে। আমি চাই আমার কাজের চাপ কম হোক এবং কারখানায় ডে কেয়ার থাকুক যেন আমি আমার সন্তানদের ন্যূনতম দেখাশোনা করতে পারি।

নারীশ্রমিক রুবি বলেন, খুব ছোট বেলায় কারখানায় কাজ শুরু করেছি। কিন্তু এখন বয়স বৃদ্ধির অজুহাতে আমরা চাকরি হারিয়েছি। যখন দক্ষ হয়ে উঠছি তখনই আমরা চাকরি থেকে ছাঁটাই হয়ে যাচ্ছি। আমরা যারা বয়স বেশির কারণে কারখানা থেকে চাকরি হারাচ্ছি তাদের জন্য আপনারা কিছু করেন।

কর্মজীবী নারী’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিরীন আখতার, সাবেক সংসদ সদস্য (ফেনী—১) বলেন, সকল নারীই কর্মজীবী নারী শ্লোগানে কর্মজীবী নারী প্রতিষ্ঠিত হয় যেখানে আমাদের লক্ষ্য ছিল নারীর অধিকার ও কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করা। পোশাক শিল্প থেকে নারী শ্রমিক ঝরে যাচ্ছে তবে বর্তমানে নারীদের কাজের পরিধিও বেড়েছে। ফলে কোন কাজটা নারীর করতে ভালো লাগবে সেটা ভাবার সুযোগ পাচ্ছে নারীরা। সুতরাং পোশাক শিল্প ছেড়ে নারীরা কোন কাজের সাথে যুক্ত হচ্ছে সেটা নিয়েও গবেষণা করতে হবে। নারীরা সব পারবে না, নারীর সাথে সাথে পুরুষকেও পারতে হবে। ঘরের কাজের চাপ কমানোর জন্য ঘরের পুরুষকেও দায়িত্ব নিতে হবে। একইসাথে সরকার এবং নিয়োগকর্তাকেও এগিয়ে আসতে হবে। নারীর জন্য বিনিয়োগ করলেই সমাজে নারীর সমঅধিকার ও সমসুযোগ নিশ্চিত হবে।

সেমিনারে মোস্তফা মাহমুদ সারোয়ার, উপপরিচালক (প্রশাসন), সমাজসেবা অধিদপ্তর, রোখসানা চৌধুরী, উপপরিচালক (মেডিকেল ও শ্রমকল্যাণ), শ্রম অধিদপ্তর, জিআইজেড, এফইএস, ফেয়ারওয়্যার ফাউন্ডেশন, ইটিআই এর প্রতিনিধিবৃন্দ, ট্রেড ইউনিয়ন এবং নারীশ্রমিক কন্ঠের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংগঠনে প্রতিনিধি ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সব শেষে সেমিনারের সভাপতি কর্মজীবী নারী’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিরীন আখতার, সাবেক সংসদ সদস্য (ফেনী—১) সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাপ্ত সুপারিশসমূহ

  • শিশুকাল থেকেই জেন্ডার এবং কাজের সমবন্টনের বিষয়ে শিশুদের জানাতে হবে
  • কারখানায় সকলসুবিধাসহ কার্কর যে কেয়ার স্থাপন করা
  • এলাকাভিত্তিক চাইল্ড কেয়ার স্থাপন করতে হবে
  • নারীর অবৈতনিক কাজের চাপ কমাতে সরকার ও নিয়োগকর্তার পাশাপাশি ট্রেড ইউনিয়নকে ভূমিকা পালন করতে হবে
  • নারী শ্রমিকদের জন্য সময় ব্যবস্থাপনা, দরকষাকষি, পারিবারিক জীবন ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য ও যত্নমূলক কাজের বিষয়ে জীবন দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান করা
  • বিদ্যমান আইনের বাস্তবায়ন করা
  • সচেতনতামূলক যৌথ কর্মসূচি আয়োজন করা

 

 

 

Pin It on Pinterest